1. hello@channelz24.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.channelz24.com : TV :
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সংসদে বিল উত্থাপন : গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’ এবং ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ নামে আরো দুইটি উত্থাপন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংস অধিবেশনে বিল তিনটি উত্থাপন করেন মন্ত্রীরা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিল তিনটি উত্থাপনের আগে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। বিলগুলো উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বহুল আলোচিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটিতে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিজ পরিচয়ে বা সরকারের সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করলে কিংবা তার অবস্থান গোপন রাখলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করা।

বিলে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

বিলে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তাদের সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

বিল অনুযায়ী, গুমের অভিযোগ তদন্তে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময় থাকবে। বিচারকাজ সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না। সরকার অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দিতে পারবে। মিথ্যা গুমের অভিযোগের জন্য পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে বিচারযোগ্য বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পাঠাতে হবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ওই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করেনি। এর পরিবর্তে নতুন বিল আনা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
©
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট