যৌথ ব্যবসার বকেয়া পাওনা ও চার বছরের জমা লভ্যাংশের মোট ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ফেরত চাওয়াতেই ঘটল বিপত্তি। পাওনাদারকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে হামলা ও মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার পর, নিজের অনুসারীদের দিয়ে বসতঘর তছনছ করে উল্টো নগদ ২ কোটি টাকা ও ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের কাল্পনিক মামলা ঠুকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ফরিদপুর শহরের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৌরভ মোল্লার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সৌরভ মোল্লার বোন সীমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সীমা আক্তার জানান, কানাইপুর এলাকার মৃত হাসান বিশ্বাসের ছেলে শামীম আহমেদ মুকুটের সাথে সৌরভ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে ইটভাটার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি ব্যবসা গুটিয়ে মোট ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং গত চার বছরের জমে থাকা লভ্যাংশ হিসাব করে ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করেন শামীম আহমেদ মুকুট। পাওনা শোধ না করে স্থানীয় শালিস বৈঠকেও তিনি সময়ক্ষেপণ করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে সৌরভ মোল্লাকে কানাইপুরে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মুকুট। সৌরভ তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা মুকুটের সন্ত্রাসী অনুসারী বাহিনী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে সৌরভ ও তাঁর সহযোগীরা দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সীমা আক্তার আরও দাবি করেন, সৌরভ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই শামীম আহমেদ মুকুট পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের অনুসারীদের দিয়ে নিজ বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করান। পরবর্তীতে তিনি কোতয়ালী থানায় হাজির হয়ে সৌরভ মোল্লা, মুস্তাক, আবদুল্লাহ সরদার বাবু, মাহিদুল ইসলাম স্মরণ, সাইদুল ইসলাম হৃদয় ও জাহিদ খাঁসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নগদ ২ কোটি টাকা এবং ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের এক সাজানো ও অবিশ্বাস্য মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সীমা আক্তার প্রশ্ন তোলেন, “স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো সচেতন ব্যক্তি নিজ বসতবাড়িতে একাধারে নগদ ২ কোটি টাকা এবং ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার কীভাবে ফেলে রাখেন? এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব একটি গল্প। মূলত বিপুল অংকের পাওনা টাকা আত্মসাৎ ও পাওনাদারকে হেনস্তা করার হীন পাঁয়তারা থেকেই মুকুট নিজের ঘরবাড়ি ভেঙে এই মিথ্যা হামলা ও লুটপাটের নাটকের আশ্রয় নিয়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একইসাথে সাজানো মামলার পেছনে থাকা প্রকৃত সত্য উন্মোচন করে শামীম আহমেদ মুকুটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সৌরভ মোল্লার পাওনা ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।