ফরিদপুর পৌরসভাস্থ সদর হাসপাতালের পাশের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ী মন্দির থেকে চুরি হওয়া বহুমূল্যের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্নালংকার ও অন্যান্য পিতল-রুপার মূর্তি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ক্লু-লেস ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মাথায় মূল রহস্য উদঘাটনসহ সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জনাব শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো—আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮) ও তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী বাজারের 'বোয়ালমারী জুয়েলার্স'-এর মালিক আতিয়ার রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দির কমিটির লোকজন তালাবন্ধ করে চলে যান। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে এসে তারা দেখতে পান দরজার সবকটি তালা কাটা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, আনুমানিক ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ কেজি ওজনের বিরল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, আনুমানিক ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, পিতলের তৈরি বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি (ওজন ৮ কেজি, মূল্য ২৪ হাজার টাকা) এবং শিবলিঙ্গে পেঁচানো রুপার নাগসহ মোট ৩০ ভরি রুপার অলংকার (মূল্য ৯০ হাজার টাকা) চুরি হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং-৪৩, তারিখ: ২০/০৯/২০২৬, ধারা: ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড) রুজু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীর প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একাধিক চৌকস টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুপ্তচর নিয়োগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা জুড়ে বিরামহীন অভিযান চালিয়ে চার আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে আসামীদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামী সাজেদা বেগমের বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ-রুপার অলংকার এবং ৬টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
আসামী আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিনের স্বীকারোক্তিতে বোয়ালমারীর রুপাপাত এলাকায় এক বাড়ির পেছনের মাটির নিচ থেকে চুরি হওয়া মূল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের দোকান থেকে মন্দির থেকে চুরি করা কানের দুল ও টিকলি গলানো ৮ আনা সোনা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টিরও বেশি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এত বড় চুরির ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মালামাল উদ্ধার ও কুখ্যাত চক্রকে গ্রেপ্তার করা ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।