1. hello@channelz24.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.channelz24.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-৫ আমি কোনো দলের নই, সবার এমপি হতে চাই: কামাল হোসেন

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে ঢাকা-৫ আসন। এ আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা সদস্য। কামাল হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. নবীউল্লাহ নবী।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।‌ একদিন পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কামাল হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা। তিনি সাক্ষাৎকারে জয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া, নিজের আগামীর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরেন।

জাগো নিউজ: আপনাকে অভিনন্দন, কেমন আছেন?

কামাল হোসেন: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায়ই আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

জাগো নিউজ: বিজয়ের প্রতিক্রিয়া কী?

কামাল হোসেন: আমার ঢাকা-৫ এর জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য যারা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয় অর্জন করিয়েছে, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। এটা আমার ব্যক্তিগত বিজয় নয়, এটি জনগণের বিজয়। এটি অন্যায়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ন্যায় এবং ইনসাফের বিজয়।

জাগো নিউজ: ভোটাররা আপনাকে কেন বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন?

কামাল হোসেন: আমি মনে করি এখানে সব স্তরের ভাই-বোনেরা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যারা জুলাই স্পিরিট ধারণ করে, তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং অবহেলিত যাত্রাবাড়ী-ডেমরাকে গড়ে তোলার প্রত্যাশাই আমাকে সমর্থনের মূল কারণ।

জাগো নিউজ: সামনে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

কামাল হোসেন: জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই দায়িত্ব আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে গ্রহণ করেছি, যেন আমরা ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

জাগো নিউজ: চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনার ভাবনা কী?

কামাল হোসেন: চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। এখানে কোনো আপস নেই। আমার জনগণ আমাকে রায় দিয়েছে কারণ তারা এই বিষয়গুলো পছন্দ করে না। আমরা যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি, এটাই আমাদের দোয়া।

জাগো নিউজ: নির্বাচন শেষে জনগণের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন?

কামাল হোসেন: হ্যাঁ। গেজেট প্রকাশের পর ছয়টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছি। মসজিদে নামাজে অংশ নিচ্ছি, মুরুব্বি ও সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলছি, মানুষের কথা শুনছি। তাদের সমস্যাগুলো জানছি।

জাগো নিউজ: ভোটের পরের পরিবেশটা কেমন?

কামাল হোসেন: কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে, কিছু হুমকি আসছে আমাদের কর্মীদের ওপর। তবে আমি বারবার বলছি, আমি কোনো দলের এমপি নই, আমি সব মানুষের এমপি। সবাইকে ইনসাফভিত্তিকভাবে সেবা করার চেষ্টা করব। কেউ যেন রাগ বা প্রতিহিংসার শিকার না হয়, তার কোনো সুযোগ নেই। আমি সবার জন্য দায়িত্ব পালন করতে চাই।

জাগো নিউজ: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন?

কামাল হোসেন: হ্যাঁ, গণসংযোগে বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পেও গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এই বিজয় আমাদের, এটা এক পক্ষের নয়। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করব।

জাগো নিউজ: পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে কি কথা হয়েছে?

কামাল হোসেন: গতকাল আমি আমার পক্ষ থেকে ফোন দিয়েছি, পাইনি। আমাদের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি অসুস্থ বলে দুই-তিন দিন পরে দেখা করতে বলছেন। তবে তার মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে আমি সংক্ষিপ্ত, সহানুভূতিশীল আলোচনা করেছি। উনার সুস্থতা কামনা করছি এবং নবী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করব দ্রুত।

জাগো নিউজ: সংসদে আপনার ভূমিকা কেমন হবে?

কামাল হোসেন: আমি এরই মধ্যে ইশতেহারে যা তুলে ধরেছি, সেটা গণ মানুষের ইশতেহার। আমার প্রধান অগ্রাধিকার হবে জনদুর্ভোগ লাঘব, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা, ব্রিজ-প্রতিটি ওয়ার্ডকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক উন্নয়নের বাজেট দেওয়া হবে। এই বিষয়গুলো আমি সংসদে তুলে ধরব।

জাগো নিউজ: আপনি একটা নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছেন? 

কামাল হোসেন: আমি আমার সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই পরিকল্পনা করেছি। সরকার থেকে যে বাজেট পাব, সেই অনুযায়ী কাজ করব। সব ওয়ার্ডে প্রায়োরিটি বেসিসে উন্নয়ন হবে।

জাগো নিউজ: উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার কী থাকবে?

কামাল হোসেন: জলাবদ্ধতা নিরসন হবে প্রথম অগ্রাধিকার। এরপর রাস্তা, ব্রিজ, খাল খনন এবং ওয়ার্ডভিত্তিক ন্যায্য উন্নয়ন বাজেট নিশ্চিত করা হবে।

জাগো নিউজ: নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের কথা বলবেন?

কামাল হোসেন: ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে যে ব্রিজটা দিয়ে হাজীনগর এলাকায় যেতে হয়, এতে বড় যান চলাচলের সমস্যা আছে। খাল পরিষ্কার, ব্রিজ সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসন সেখানে জরুরি।

জাগো নিউজ: শেষ কথা কী বলতে চান ভোটারদের উদ্দেশে?

কামাল হোসেন: আমি সবার এমপি হতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। জনগণের আস্থার মর্যাদা রাখাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

 

সুত্র: জাগো নিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
©
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট