আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স:
জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ প্রায় ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠনকে ছুড়ে ফেলতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এ সংস্থা ও সংগঠনগুলো থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ তালিকায় রয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা পরিচালনাকারী জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে এ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, এজেন্সি ও কমিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ সংস্থাগুলোর অনেকটিই অপ্রয়োজনীয়, অপব্যবস্থাপনা বা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থি। এদিকে এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, ইউনেসকোসহ একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এ ছাড়া কার্বনফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, ইউনাইটেড ন্যাশনস ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশনসহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মী সংখ্যায়ও কাটছাঁটের প্রভাব পড়ছে। মূলধারার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতি ও নিঃসরণকারী দেশ সহযোগিতা থেকে সরে গেলে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগ ব্যাহত হবে।’
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও ঘোষণা করেছেন, ‘এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয়সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ভেনেজুয়েলা কীভাবে চলবে তার নির্দেশনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তাদের তেলও বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চভবন সিনেটে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রুবিও। সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা। ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশৃঙ্খলার দিকে ঝুঁকে পড়ুক, এমনটা আমরা চাই না। এ কারণে দেশটির তেল উত্তোলন, বিপণনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’ রুবিও আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল খাত “ঢেলে সাজানো”র উদ্যোগ নিয়েছে। এটি হলো ভেনেজুয়েলার তেল খাত সংস্কারের “প্রথম পর্যায়”। তাই এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং সরকারের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া আর কাউকে এ খাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তেল খাত সংস্কারের এ কাজ শেষে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। এ পর্যায়ে মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্যভাবে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।’
এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট দপ্তর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে গভীর সমন্বয় করছি। তাদের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় হবে।’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উঠছে সিনেটে : কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে সিনেটে প্রস্তাব উঠছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট বিবেচনায় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। প্রস্তাবটির সমর্থকরা বলছেন, সিনেটে হাড্ডাহাড্ডি ভোটে এ প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করার জন্য উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানের সিনেটররা ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তোলা একাধিক প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ ভোটে ব্যবধান ছিল ৪৯-৫১; যেখানে ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নভেম্বরের একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ওই সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, তাঁরা ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন কিংবা দেশটির ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করছেন না। জানা গেছে, মাদুরো আটক হওয়ার পর কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ্যে এবং কিছু রিপাবলিকান আড়ালে থেকে এ অভিযোগ করেছেন।