1. hello@channelz24.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.channelz24.com : TV :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

গ্রেডভিত্তিক মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে
Oplus_131072

অনলাইন নিউজ ডেক্স:

নতুন পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর আপাতত সেই পথ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও স্বস্তির খবর পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক মহার্ঘ ভাতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছে সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বেতন কাঠামো পরিবর্তনের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। এই বাস্তবতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের নিয়মেই মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।

যদিও নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং নির্বাচন শেষে নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাস্তবসম্মত।

অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই ও যুক্তিসংগত বেতন কাঠামো তৈরি করা।

পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আবাসন ব্যয় ও শিক্ষা ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই সুপারিশের আলোকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সে সময় ১ জুলাই থেকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সরকার মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে নতুন পে স্কেলের দিকেই অগ্রসর হয়।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রীতি থাকলেও অষ্টম বেতন কাঠামোর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি। ফলে অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে গিয়ে ঠেকেছে।

এই বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রায় সমাপ্ত হবে।

সব মিলিয়ে, নতুন পে স্কেল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেড অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন এটাই বর্তমান বাস্তবতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
©
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট