1. hello@channelz24.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.channelz24.com : TV :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৮

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
Oplus_131072

অনলাইন নিউজ ডেক্স:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় জামায়াত–বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন—উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরীর ছেলে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. সোলায়মান চৌধুরী, মাইক্রোচালক কনকাপৈত ইউনিয়নের বুদ্দিন গ্রামের ফয়েজ আহমেদের ছেলে মো. মামুন, হাটবাইর গ্রামের মৃত মফিজুর রহমান খাঁনের ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজান খাঁন, তাঁর বোন নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রবিউল হক রকি, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি মো. রিফাত সানি এবং জামায়াত নেতা জাকারিয়া রাসেল।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায়। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তারা হাটবাইর এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খাঁন, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় দলের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি মাইক্রো গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২ নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী জনসভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পাঁচজনসহ মোট সাতজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের এলাকায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে, যাতে আমি ও আমার গাড়িচালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান খাঁন ও মোবারক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, চৌদ্দগ্রামে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউসার হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের কেউই কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
©
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট