
নির্বাচনি লড়াইয়ে একজন ছিলেন বিজয়ী, অন্যজন পরাজিত। কিন্তু রাজনীতির সেই হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে মানবিকতা আর দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেল রাজধানীর শাহীনবাগে। ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা তুলির বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের দোয়া নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমনের মা হাজেরা খাতুন এদিন মীর আরমানকে দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন। আরমানকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি তো, আমরা খুব খুশি, আব্বা। আমার আব্বা আসছে, সৎ লোক আসছে।’
মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নিজেও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বলপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান। অন্যদিকে সানজিদা তুলি গুমবিরোধী সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর অন্যতম সংগঠক এবং তার ভাই সুমন এখনো নিখোঁজ।
সাক্ষাৎকালে সুমনের মা আরমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আব্বা পরিবারের সন্তান। সবচেয়ে বড় কথা হইলো, আমার সুমনরে বাইর করতে হইবো। আমার আবদার। আমার আবদার আমার সুমনরে বাইর করতে হইবো আব্বা।
সাক্ষাৎকালে মীর আহমাদ বলেন, ‘এই পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাজনীতির অনেক ঊর্ধ্বে। আমি যখন গুম থেকে বের হয়ে আসি, তখন জানতে পারি আমার পরিবারের দুঃসময়ে কেউ পাশে না থাকলেও এই মায়ের ডাক আর সুমনের পরিবার যোগাযোগ রেখেছিল। আমি তাঁদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ।’
মীর আহমাদ আরমান আশ্বস্ত করে বলেন, সুমন ভাইয়ের গুমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সুনির্দিষ্ট নাম জানা থাকলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, গুম হওয়া প্রতিটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে এবং দোষীদের বিচারে তিনি কাজ করে যাবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সুমন ভাইয়ের আম্মা এবং তার বোনেরা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। কীভাবে ফ্যাসিস্টের চোখের দিকে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলতে হয়, তা তাঁরা শিখিয়েছেন।’
গুম-নিখোঁজদের বিচারের দাবিতে সংগ্রাম চলছে, চলবে উল্লেখ করে আরমান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়, জড়িতরা যত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক, তাদের পেছনে যত বড় পরাশক্তিই থাকুক না কেন, যতদিন তাদেরকে বিচারের আওতায় না আনা হচ্ছে আমাদের এই সংগ্রাম চলবে।